ফিচার

আবদুল্লাহ আল মামুন: মহামারি করোনা এবং দুনিয়া বদলের আভাস

করোনা ভাইরাসের বিধ্বংসি প্রভাবে দুনিয়াতে হাহাকার চলছে। খুব অল্প সময়ে এই ভাইরাস থেকে দুনিয়াবাসী
রক্ষা পাচ্ছে না এটা মোটামুটি নিশ্চিত। যদিও চীনের উহান আমাদর স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
অনেক বিশেষজ্ঞের ধারনা করোনা পরবর্তী বিশ্বকে এর আগের বিশ্বের সাথে মেলানো
যাবেনা।

প্রশ্ন হলো দুনিয়ার এই বদলে যাওয়া কি?কেবলই নেতিবাচক হবে? আপাতত করোনার ধকল সামলাতে বেগ পেতে হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। অর্থনৈতিক মন্দা, ক্ষুধা, দ্বারিদ্র,বেকারত্ব,
রাজনৈতিক দ্বন্দ ইত্যাদি নানাবিধ সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে পুরো পৃথিবী। অনেকে
আবার সমাজতন্ত্রের সম্ভাবনা ও দেখছেন। কিন্তু মনে হচ্ছে যতটা সম্ভাবনা ভাবা হচ্ছে ততটা হওয়ার সুযোগ কম তবে সরকার গুলোর উপর চাপ বাড়বে এটা ঠিক। ফলে কল্যাণ কামী রাষ্ট্র ব্যবস্থার সূচনা হতে
পারে। দুনিয়াতে যে অচলাবস্থা তৈরী হয়েছে তার অনেক গুলো ইতিবাচক দিক আছে।
পশ্চিমা সমাজে মানুষে সবচেয়ে প্রাচীন এবং কার্যকরী প্রতিষ্ঠান পরিবার প্রথার প্রায় বিলুপ্তি ঘটেছে কিন্তু করোনা’র এই বিধ্বংসী সময়ে পরিবারে থাকার যে প্রয়োজনীয়তা রয়েছে সেটা পশ্চিমা সমাজকে ভাবিয়ে তুলতে পারে। পশ্চিমা তথা পুঁজিবাদী সমাজের চরম ব্যাক্তি স্বাতন্ত্রবাদ গৌণ হয়ে যেতে পারে। বিজ্ঞান ধ্বংসাত্বক অগ্রগতি প্রকৃতপক্ষে গনমানুষের কল্যাণে আসেনা এটা প্রমাণিত হলো চাক্ষুষ ভাবে। পশ্চিমারা ব্যস্ত থাকলে যুদ্ধ ও সন্ত্রাস ছড়ায়না ,এটাও প্রমাণিত হলো।
যুদ্ধ অস্ত্র এবং ক্ষমতার দম্ভ উন্নয়নের মাপকাঠি নয় বরং সমাজতান্ত্রিক,রাজনৈতিক অর্থনৈতিক মডেল ই মানুষের প্রাত্যাহিক জীবনকে সহজ করে তুলতে পারে এটা বুজ সহজতর হলো। ধনতন্ত্রের বাগাড়ম্বর নিতান্তই কাগুজে বাঘ!

পরিবেশের উপর মানুষের ধ্বংসাত্মক প্রভাবে পুরো মানব জাতির বিলুপ্তির কারন ও হতে পারে করোনা ।তার ই জানান দিচ্ছে। বৈশ্বিক মহামারি মোকাবেলায় সব মানুষের
সামষ্টিক প্রচেষ্টার বিকল্প নেই এ ধারনা থেকে গ্লোবালাইজেশনের একতরফা সুবিধা লাভের
মনোভাব পরিহার না করলে দুনিয়াতে কেউ নিরাপদ থাকবেনা। যদি মানুষের মধ্যে উপরোক্ত বোধোদয় ,সচেতনতা তৈরি হয় তাহলে প্রতিটি মানব
শিশুর আগামী পৃথিবী সুখের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠতে পারে। আমরা আশা করছি ভবিষ্যতে
যত মানব শিশু জন্ম নিবে দুনিয়াটা হবে তাদের জন্য মায়ের কোলের মতই নিরাপদ।
আসুন নিরাপদ পৃথিবী গড়তে হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পথ চলি।

আরও সংবাদ