কৃষি সমাচার

ইরি-বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষক

নেহাল আহম্মেদ প্রান্ত: নওগাঁর রানীনগরে চলছে ইরি-বোরো ধান রোপণের মৌসুম। শীত ও ঘন কুয়াশাকে উপক্ষো করে কাক ডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন জমিতে।
বিশেষ করে উপজেলার বিল এলাকায় ইতিমধ্যেই ধান রোপণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। তবে পর্যাপ্ত শ্রমিক থাকায় অনেকটাই স্বস্তিতে আছেন কৃষক ও গৃহস্থরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্যান্য উপজেলার চেয়ে শীত ও কুয়াশায় বীজতলার তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। কৃষকরা নিজেদের চাহিদা পূরণ করে আশপাশের অঞ্চলে বোরো ধানের চারা পাঠাতে পারবেন। এখন পর্যন্ত উপজেলায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। চলতি মাসেই পুরো উপজেলায় ধান রোপণ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলার বিল অধ্যুষিত এলাকা মিরাট ইউনিয়নের আতাইকুলা গ্রামের কৃষক রনজিত সাহা বলেন, আমাদের জমিগুলো বিল এলাকায় হওয়ার কারণে সবার আগেই আমরা বোরো ধান রোপণ করি। কারণ বর্ষা মৌসুমে আমাদের জমিতে পানি জমে যায়। তাই এই অঞ্চলের কৃষকরা আগাম ধান রোপণ করে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর শ্রমিক সংকট না থাকায় আমরা কৃষকরা অনেকটাই স্বস্তিতে আছি। এছাড়াও শ্রমিক খরচ অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটা কম।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, ধানই এই অঞ্চলের প্রধান ফসল। তাই কৃষি অফিসের লোকজন সব সময় কৃষকদের জমি প্রস্তুতি থেকে শুরু করে আগাম পরামর্শ দিয়ে আসছে। আশা করছি চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বোরো ধান চাষ হবে। এছাড়াও আমরা কৃষকদের অধিক ফলনশীল ধান চাষের প্রতি উদ্ধুদ্ধ করে আসছি। তাই এবার কৃষকরা আগের চেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে অধিক ফলনশীল জাতের বোরো ধান চাষ করছেন। আশা করা হচ্ছে চলতি মাসেই উপজেলার পুরো মাঠেই ধান রোপণের কাজ শেষ হয়ে যাবে।

আরও সংবাদ