খুলনা সারা দেশ

রায়পুর এবার সুপারির ভালো মূল্য পাচ্ছে কৃষক রাত জেগে পাহারা চোরের ভয়ে

মোঃ শিমুল হোসেন,লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ
(লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এবার সুপারির বেশ ভালো ফলন হয়েছে। সুপারির মোকামগুলোতে খুছরা পাইকারি কেনা-বেচায় ব্যস্ত চাষি ও পাইকাররা। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া সুপারি উৎপাদনে উপযোগী। এ জনপদের এমন কোনো বাড়ি নেই যে বাড়িতে সুপারির গাছ নেই। এ ছাড়া বিশাল-বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে সুপারির বাগান। সুপারির বাগান করে উৎপাদন করা হচ্ছে শত কোটি টাকার সুপারি। বাজার দর ভালো থাকায় সুপারি চাষে আগ্রহ বাড়ছে এখানকার মানুষের।

রায়পুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানাযায়, এখানকার মাটি ও আবহাওয়া সুপারি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। সুপারি বাগান করার মধ্য দিয়ে এখানকার কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। সঠিক সময়ে সঠিক পরিচর্যার কারণে এবার এ উপজেলায় সুপারির খুব ভালো ফলন হয়েছে। তবে সমস্যা বেড়েছে দাম মূল্যে বৃদ্ধির কারনে সুপারির বাগানে চোর আতংকে দিন রাত কাটাচ্ছে কৃষক। প্রায় বাগান গুলোতে প্রতিরাতে চোরের দল চেকপোস্ট বসিয়ে বাগান মালিকের সুপারিগুলো নিয়ে যাচ্ছে। সে জন্য মালিকরা সুপারির বাগানে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। থানা পুলিশ বলছে প্রতিরাতে প্রতিরাতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। ফোন দেওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে চলে যাবে।

গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কাঁচা-পাকা সুপারির দাম কিছুটা বেশি। এতে ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষিরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সুপারি গাছে ফুল আসে। পরে এ ফুল থেকে সৃষ্ট সুপারি পুরোপুরি পাকে কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে। মূলত কার্তিক মাস আর অগ্রহায়ণ মাসেই সুপারির ভরা মৌসুম। তবে এবার সময়ের আগেই বাজারে এসেছে সুপারি। এবার আশ্বিন মাসের শেষের দিকে বাজারে আসতে শুরু করে সুপারি।
এখন উপজেলার প্রতিটি বাজারেই প্রচুর পরিমাণে সুপারি আসছে। এখানকার সুপারির প্রায় ৭০ শতাংশ নদীনালা, খালডোবা, পুকুর ও পানিভর্তি ভিজিয়ে রাখেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আর ৩০ শতাংশ সুপারি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ ছাড়াও রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। এ বছর কাঁচা-পাকা সুপারির ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষি, গৃহস্থ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সুপারির প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র না থাকায় অনেক সময় কৃষকরা সুপারির ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন।

এ বছর মৌসুমের শুরুতেই সুপারি বিক্রির মোকাম উপজেলার, হায়দরগঞ্জ, মিতালি বাজার, বাবুরহাট, খাশের হাট, মোল্লার হাট, কাজী দিঘিরপাড়, চৌধুরী বাজার, ভূঁইয়া রাস্তা, রাখালিয়া, চরপাতা, গাজীনগর, কেরোয়া, সুনামগঞ্জ এবং উত্তর ও দক্ষিন চরবংশী, চরমোহনা, বামনী, কেরোয়া, উত্তর ও দক্ষিন চর আবাবিল ইউনিয়নে প্রায় ২৫টির বেশি মোকাম রয়েছে। এখানে সপ্তাহে দুইদিন ক্রয় বিক্রি চলে।
স্থানীয় কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা নিজেদের চাহিদা মতো সুপারি স্থানীয় পাইকারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করছেন। এ বছর প্রতি পোন সুপারি (৮০টি) মানভেদে ১৩০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, প্রতি কাউন (১২৮০টি) ২৫ শ টাকা থেকে দুই হাজার ৮শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তবে এবার বাজারে সুপারির দাম অন্যন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশী।

রায়পুর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণের অধিদফতরের ক্ষেত্র সহকারী আলমগীর হোসাইন জানান, এ বছর সুপারির ফলন অনেক কম হয়েছে। রায়পুরে ছোট বড় মিলিয়ে বর্তমানে ১৬৭ হেক্টর জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। আর এসব বাগানে এ বছর উৎপাদিত হয়েছে ৫০০ মেঃটন সুপারি। এ মৌসুমে উৎপাদিত সুপারির বাজার মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টর।

আরও সংবাদ