ক্যাম্পাস

কেএসডব্লিউএডি: অদম্য তারুণ্যের জাগ্রত অঙ্গীকার

আতিকুর রহমান আতিক: সময়টা ২০০১ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে মিলিত হলেন বেশ কয়েকজন তরুণ। সবাই ঢাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। এসেছেন সুদূর কুড়িগ্রামের বিভিন্ন অজপাড়াগাঁ থেকে জীবনের বাঁকে বাঁকে নানান চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে নতুন জীবনের স্বপ্নে রাজধানী ঢাকায়। তখনও জেলা হিসেবে কুড়িগ্রামের পরিচিতি খুব কম। যারা চেনেন তারা জানেন এখানকার মানুষগুলো হতদরিদ্র। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সভ্যতার প্রতিনিধি। বন্ধু-বান্ধবরা ঠাট্টা করে সম্বোধন করে ‘মঙ্গা’ বলে। কিবরিয়া, হিরা, শিমূল, শাহে আলমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলেন ঢাকায় যেখানে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কুড়িগ্রামের ছেলেমেয়েরা আছে তাদের একত্রিত করতে হবে। সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে সভ্য সভায় প্রতিনিধিত্ব করার লক্ষ্যে। ০৩ আগস্ট ২০০১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে প্রতিষ্ঠা লাভ করে অদম্য তারুণ্যের জাগ্রত অঙ্গীকার ‘কুড়িগ্রাম স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইন ঢাকা’। কুড়িগ্রামের আরেক সূর্যসন্তান সৈয়দ শামসুল হকের আহ্বান প্রতিধ্বনিত হলো তাঁদের কন্ঠে- ‘জাগো বাহে, কোনঠে সবায়’।

জন্মের পর থেকেই কেএসডব্লিউএডি নানা ধরণের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নিম্নবিত্ত পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন ঝরে না পড়ে সেজন্য ‘চোখে নীলাকাশ, বুকে বিশ্বাস, পায়ে উর্বর পলি’ নিয়ে কাজ শুরু করলেন সম্ভাবনাময় মুখগুলোর কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির টাকা যোগাতে। যে প্রয়াস আজও চলমান। বার্ষিক শিক্ষা সফরে বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য ভান্ডারে নিয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রকৃতি সচেতনতা জাগ্রত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তাঁরা। এছাড়াও, ঢাকায় অবস্থানকারী ছেলেমেয়েদের নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করা এবং বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নবীনদের বরণ করে নেওয়া সহ নানাবিধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি।

ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমর সহ অনেক নদ-নদী আবহমান কাল ধরে প্রবাহিত হচ্ছে কুড়িগ্রামের বুক চিরে। আষাঢ়-শ্রাবণে অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্রতিবছরই বন্যার অভিশাপ নেমে আসে এই জনপদে। বন্যার্ত মানুষদের সহায়তায় সাধ্যানুযায়ী শুকনো খাবার এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে মা, মাটি ও মানবতার টানে ছুটে যায় কেএসডব্লিউএডি পরিবার। তাঁদের প্রকাশিত সাহিত্য সাময়িকীর ‘ব্রহ্মপুত্র’ নামকরণের মাধ্যমেও প্রকাশিত হয় শেকড়ের প্রতি দায়বদ্ধতা।

২০০১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দের তালিকা:

(০১) প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি: সভাপতি: গোলাম কিবরিয়া, সাধারণ সম্পাদক: জহুরুল ইসলাম হিরা।

(০২) দ্বিতীয় কমিটি: সভাপতি: শাহাজাহান আলী, সাধারণ সম্পাদক: নূর-ই-আলম সিদ্দিকী।

(০৩) তৃতীয় কমিটি: সভাপতি: মোয়াচ্ছেল হোসেন শিমুল, সাধারণ সম্পাদক: শাহে আলম।

(০৪) চতুর্থ কমিটি: সভাপতি: আমিনুল ইসলাম ফুলু, সাধারণ সম্পাদক: শাহজাহান আলী সোহাগ।

(০৫) পঞ্চম কমিটি: সভাপতি: নুরুজ্জামান রাজু, সাধারণ সম্পাদক: বিপ্লব হাসান পলাশ।

(০৬) ষষ্ঠ কমিটি: সভাপতি: নূরে এরশাদ সিদ্দকী, সাধারণ সম্পাদক: আনিসুর রহমান।

(০৭) সপ্তম কমিটি: সভাপতি: আশরাফুল ইসলাম দূর্জয়, সাধারণ সম্পাদক: ওবায়েদুর রহমান

(০৮) অষ্টম কমিটি: সভাপতি: জিল্লুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক: রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

(০৯) নবম কমিটি: সভাপতি: আনিসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক: সাদিকুর রহমান শিফাত।

(১০) দশম কমিটি: সভাপতি: নাজমুল হুদা সুমন, সাধারণ সম্পাদক: রওশানুজ্জামান কানন।

(১১) একাদশতম কমিটি: সভাপতি: আতিকুর রহমান আতিক, সাধারণ সম্পাদক: শাহরিয়ার কবির অন্তর।

(১২) দ্বাদশ কমিটি: সভাপতি: জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, সাধারণ সম্পাদক: মেহেদী হাসান

(১৩) ত্রয়োদশতম কমিটি (চলমান): সভাপতি: আব্দুল্লাহ আল সুবাইল, সাধারণ সম্পাদক: আবু সাইদ ইসিয়াম

শুধু ভালো ছাত্র নয়, বরং একই সঙ্গে ভালো মানুষ হয়ে আলোকিত কুড়িগ্রাম গড়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সর্বদা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ‘কুড়িগ্রাম স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইন ঢাকা’ পরিবারের সদস্যরা।

লেখক: আতিকুর রহমান আতিক, সাবেক সভাপতি, কেএসডব্লিউএডি।

আরও সংবাদ