আইন ও আদালত রংপুর

হাইকোর্টের নির্দেশকে অবমাননা করে আন্তবিদ্যালয় শিক্ষক বদলী

মোঃ তানজীম নোমান ।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি,
মহামান্য হাইকোর্টের আদেশকে অবমাননা করে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে সাবেক ছিটমহলের ২টি বিদ্যালয়ে আন্তবিদ্যালয় শিক্ষক বদলী। গত ১৮ডিসেম্বর২০১৯ইং তারিখে মহামান্য হাইকোর্টে বিচারক এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারক কামরুল কাদেরের বেঞ্চ আগামী ৬মাসের জন্য শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি স্থিতি করেন।

জানা গেছে, স্বাধীনতার ৫০বছরের বন্ধী দশা থেকে মুক্তি পেয়ে আলোর প্রদীপের দীপশিখাটি জ্বালাতে শুরু করলেন সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দারা, আর সেই দীপশিখার আলোকে অন্ধকারে নিমর্জিত করতে স্থানীয় কতিপয় অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে উঠে পরে লাগে কিছু দুর্ণীতিবাজ কর্মকর্তা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখার চেষ্টায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার অংশ হিসেবে শিক্ষিত জাতি গঠনের বিকল্প নেই।

গত ২০১৫সালের পহেলা আগষ্ট জাতির জনকের কাঙ্খিত স্বপ্ন পূরণে বাংলার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে ছিটমহল চুক্তি বাস্তবায়ন করেন, বিলুপ্ত ছিটমহলের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য ও বাসস্থানের সু-ব্যবস্থা করেন। আর তারেই আলোকে বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে শিক্ষার মান উন্নয়নের স্থানীয় কিছু শিক্ষাঅনুরাগী ব্যক্তিগণের সার্বিক সহযোগীতা গড়ে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
তারেই ধারাবাহিতায় দেশের আন্তজাতিক সকল সমস্যা সমাধান করে দেশ যখন এগিয়ে চলছে ঠিক সেই মহুর্তে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য উঠে পরে লেগেছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তিদ্বয়। বাংলাদেশ একটি মধ্য আয়ের দেশে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলার বিকল্প নেই।

লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের সাবেক ছিটমহল ১১৯নং বাঁশকাটা এলাকায় নির্মিত হয় “বাঁশকাটা বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের” প্রধান শিক্ষক শ্রী দিব্য নাথ রায়। বিশ্ব মানবতার জননী জননেত্রী শেখ হাসিনা পহেলা আগষ্ট-২০১৫ইং তারিখে মুজিব ইন্দিরা চুক্তি বাস্তবায়নে ছিটমহল বিনিময় করলে এলাকাবাসির সার্বিক সহযোগীতায় টিনসেট ঘর স্থাপন করে “বাঁশকাটা বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে সাবেক ছিটমহলে হতদরিদ্র পরিবারের ছোট সোনামণিদের নিয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে পাঠদান কার্যক্রম চালু করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত মাঠে সরকারি ১৫০০প্রকল্পের আওতাধীন একটি ভবন নির্মাণ করা হলে কর্মরত শিক্ষকদের চাকুরী জাতীয়করণে অনিশ্চিত হয়ে পরে। পাটগ্রাম উপজেলার ২১নং পানিশালা ও ১৪নং লতামারি সাবেক ছিটমহলে প্রতিষ্ঠিত সলেমান কবিরন নগর ও মৌলভী খিদির পাড়া বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ মোট ১৫জন শিক্ষক শিক্ষিকা মিলেই মহামান্য হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন, যাহার মামলা নং-১৪৮৮৭। মহামান্য হাইকোর্ট মামলাটি আমলে নিয়ে নিয়ে আগামী ৬মাসের জন্য স্থিতিবস্থা  ও রুলজারি করেন। উকিল নোটিশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে অবগত করেন। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সকল দপ্তরে কাগজ পত্র দেয়া সত্বেও গত ৮জানুয়ারী-২০২০ইং তারিখে আন্তবিদ্যালয় বদলী হিসেবে ১১৯নং বাঁশকাটা বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২জন শিক্ষককে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে পদায়ন করেন। গত ১৫জানুয়ারী-২০২০ইং তারিখে পদায়নকৃত শিক্ষককে প্রত্যাহারের দাবিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি লিখিত আবেদন করা হলেও তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি।
অভিযোগ সুত্র জানা গেছে, বদলীকৃত সেই শিক্ষকগণ মহামান্য হাইকোর্টে আদেশকে অবমাননা করে প্রতিদিনেই বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠাদান ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি শিক্ষার্থীদেরও সঠিক আতংকিত হয়ে ক্লাসে আসা বন্ধ করে দেয়ার মত অবস্থা দেখা দিচ্ছে। মহামান্য হাইকোর্টের আদেশের সংশ্লিষ্ট দপ্তর পাওয়ার পরেও সরকারি বদলী করা শিক্ষকদের এখন প্রত্যাহার না করা সচেতনমহল দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এব্যাপারে বাঁশকাটা সাবেক ছিটমহলের ১১৯নং বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিব্য নাথ রায়, আমরা সাবেক বাঁশকাটা ছিটমহলের ১১৯বাঁশকাটা বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি আমরা প্রতিষ্ঠিত করেছি, আমরা ২০১৫ সাল থেকে ক্লাস চালাচ্ছি। সরকারি শিক্ষক বদলীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে কোন সরকারি বিদ্যালয় নেই, শিক্ষা অফিস যে শিক্ষকদের এখানে পাঠিয়েছে ওরা এখানে আসেন মাঠে বসে আড্ডা দিয়ে চলে যান। সরকারি শিক্ষকরা এখনো ক্লাসে আসতে পারেনি, আমরা বাচ্চাদের বই দিয়েছি আমরা বাচ্চা সংগ্রহ করেছি, আমরা আছি, মহামান্য আদালত আমাদেরকে যে রায় দিবেন আমরা তা মেনে নিবো।

এব্যাপারে লালমনিরহাট জেলা শিক্ষা অফিসার গোলাম নবী বাদশাহ জানান, আমরা কোন বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক বদলী দেইনি, সরকারি আইন অনুযায়ী সাবেক ছিটমহলের যে সমস্ত এলাকায় ১৫০০ভবন রয়েছে আমরা সেই বিদ্যালয়গুলোতে এর আগে ডিপুটিশন শিক্ষক দিয়েছি এবং আন্তবিদ্যালয় শিক্ষক বদলীতে ২টি বিদ্যালয়ে শিক্ষক দেয়া হয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আদালতের আদেশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আদেশের কপি পেয়েছি, আমাদের কাজে আদালত রুলজারি করেছে, আমরা রুলের জবাব দিবো। এদিকে পাটগ্রাম উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবুল হোসেনের সাথে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তার মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি |

আরও সংবাদ