রাজশাহী শিক্ষা সারা দেশ

জয়পুরহাটে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোয় পারাপার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা

রাশেদুজ্জামান আল-হাসান, জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাট সদর উপজেলার মুরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা এক বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। একই কারণে স্কুলে তাদের উপস্থিতি কম হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

১৯৭০ সালে স্থাপিত হয় জয়পুরহাট সদর উপজেলার মুরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তুলশী গঙ্গা নদীর কোল ঘেঁষে পূর্ব তীরে রয়েছে স্কুলটি আর পশ্চিম দিকের ৪-৫টি গ্রাম থেকে আসে বিভিন্ন শ্রেণিতে অধ্যয়নরত প্রায় ২ শতাধিক শিক্ষার্থী। এই গ্রামটির সাথে শহরাঞ্চল কিংবা অন্য গ্রামগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা এমনিতেই বেশ নাজুক। সরু মেঠো পথ ছাড়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য নেই কোন বিকল্প রাস্তা। পায়ে হেঁটে স্কুলের কাছে এসে তাদের নদী পার হতে হয় এক বাঁশের সাঁকোয় ভর করে।

এ ব্যাপারে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ, তদবির আর অনুরোধ করেও কোন ফল হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

বর্ষাকালে নানা বয়সী এলাকাবাসীদের সাথে শিশু শিক্ষার্থীদের ভরসা খেয়া ঘাটের একটি মাত্র ডিঙ্গি নৌকা, আর শুকনো মৌসুমে নদীতে কোথাও হাঁটু জল আবার কোথাও বা গলা পর্যন্ত। ফলে পারাপার হতে হয় একটি বাঁশে চড়ে আর হাত দিয়ে শরীরের ভর সামলাতে হয় আরেকটি বাঁশে। এভাবে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে গিয়ে বই-খাতাসহ পানিতে পড়ে ভিজছে অসংখ্য ছাত্রছাত্রী। এমন বিড়ম্বনার কথা জানিয়ে অচিরে একটি সাঁকো বা ব্রিজের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী শিশু শিক্ষার্থীরা।

ব্রিজ ছাড়া নদী পারাপারের এমন দূর্ভোগ নিয়ে পঞ্চাশ বছর ধরে ভুগছে এই বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। আরো পার্শ্ববর্তী ৫-৭টি গ্রামের সর্বসাধারণের যাতায়াত বিড়ম্বনা চলছে দিনের পর দিন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে একটি ব্রিজ নির্মাণের আকুল আবেদন জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

মুরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রনব চন্দ্র মন্ডল ও সভাপতি মেহেদি হাসান বলেন, আমাদের স্কুলের জন্য নদীর উপর একটি ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ করে দেন, তাহলে আমাদের স্কুলের উপস্থিতি বাড়বে। আমরা বিভিন্ন স্থান থেকে আসি, আমাদেরও জন্য সুবিধা হবে, সর্বোপরি এতদঅঞ্চলের মানুষের চলাফেরার সুবিধা হবে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গেলে মুরারীপুর স্কুল ছাড়াও সদর উপজেলার করিম নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে আরো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও একই সমস্যায় রয়েছে বলে স্বীকার করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয় তারা।

জয়পুরহাট সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর জানান, এ ব্যাপারে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আশা করি অচিরেই ব্রিজটি নির্মাণ হতে পারে।

আরও সংবাদ