রাজশাহী সারা দেশ

শীতের শুরুতে জয়পুরহাটের নান্দাইল দীঘিতে অতিথি পাখির আগমন

ষ্টাফ রিপোর্টার মোঃ মিজানুর রহমান : জয়পুরহাট কালাইয়ে জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীত। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকতে শুরু করছে গ্রাম থেকে গঞ্জ। এ অঞ্চলের কৃষকরা মাঠ থেকে ধান বাড়িতে আনা ও আলু রোপন নিয়ে ব্যস্ত থাকার পরেও ইতিমধ্যে শীতের পোষাক পড়তে শুরু করেছে । ছয়টি ঋতুর প্রত্যেকটি তার নিজস্ব বৈচিত্র নিয়ে আবির্ভাব হয়। প্রকৃতিতে যেন একেক সময় একেক পালা বদল। প্রতি ঋতুতেই ফুটে উঠে ঋতুর নিজস্ব বৈচিত্রতা। এই বৈচিত্রতা একদিকে যেমন মুগ্ধ করে প্রকৃতি প্রেমিককে তেমনি আমন্ত্রণ জানায় পরিবর্তনের। বাংলাদেশের প্রকৃতিকে আরও ফুটে তুলতে প্রতি বছর শীত শুরুর সাথে সাথে শীত প্রধান দেশ থেকে আগমন ঘটতে থাকে অতিথি পাখির। এরা যেমন মানুষকে মুগ্ধ করে তেমনি প্রকৃতির সৌন্দর্যকে আরও ফুটিয়ে তোলে।

এরই ধারাবাহিকতায় জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার ঐতিহাসিক নান্দাইল দীঘিতে আগমন ঘটেছে শত শত অতিথি পাখির। অতিথি পাখির সমারোহে কালাইয়ের গৌরব ঐতিহাসিক নান্দাইল দীঘি। প্রতি বছরই শীতের শুর“র সাথে সাথে এদের আগমন ঘটে এই স্থানে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদেশি অতিথি পাখি আমাদের দেশের অতিথি। তাদের ভালোবাসতে হবে। তাদের আগমনে এলাকার প্রকৃতির রুপের বৈচিত্র আরও ফুটে উঠেছে। বর্তমানে দীঘিতে অতিথি পাখি আসলেও পূর্বের মত পাখি আসেনা। তাদের দাবি এসব পাখিকে শিকারীরা যেন নির্বিচারে শিকার না করে সেদিকে আমাদের ও প্রশাসনের নজর রাখতে হবে ।

নান্দাইল দীঘি জয়পুরহাট শহর থেকে ১৯ কিলোমিটার পূর্বে কালাই থানার পুনুট ইউনিয়নের নান্দাইল গ্রামে অবস্থিত । মৌর্য্য বংশের সম্রাট নান্দলাল এই দীঘি নির্মান করেন ।

৬০ একর জায়গা জুড়ে বিসৃত এই দীঘিটির নামই নান্দাইল দীঘি । শুকনা মৌসুমে কৃষক প্রজাকুলের চাষ ও খাবার পানির দারুন অসুবিদার কথা চিন্তা করে মৌর্য্য বংশের সম্রাট নন্দের আমলে এই দীঘিটি খনন করা হয় । এক সময় এই দীঘির চারপাশে ঘন বন ও উচুঁ নিচু টিলা থাকলেও বর্তমানে তা কেটে বসতি গড়ে উঠেছে । যার ফলে শীতে প্রচুর পরিমানে অতিথি পাখি আসলেও এখন আর ততবেশী পাখি আসে না। পর্যটন অধিদপ্তরের অধিগ্রহনের ঘোষনা থাকলেও এখানে তারও কোন নমুনাও নেই ।

বর্তমানে দিঘীটির পাড়ে নান্দাইল নামক একটি কলেজ স্থাপিত হয়েছে । কথিত আছে দৈর্ঘ্যে প্রায় ১ কিঃ মিঃ দীঘি রাজা নন্দলাল ১৬১০ সালে এই ঐতিহাসিক নান্দাইল দীঘিটি খনন করেন । দিঘীটির আয়তন ৫৯.৪০ একর । সহানীয় জনগণের মতে দিঘীটি এক রাতের মধ্যে খনন করা হয়েছে । প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের কারনে বর্তমানে দিঘীটি পিকনিক স্পট হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে ।

আরও সংবাদ