টপ নিউজ ৩ রংপুর শিক্ষা সারা দেশ

কুড়িগ্রাম সদরের ‘টালানাপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ প্রধানের অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুড়িগ্রামের টালানাপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহমান ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম দূর্নীতির আধিপত্যর অভিযোগ উঠেছে।

লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের হাজীরহাট এলাকার নুর ইসলাম প্রধান শিক্ষক হয়ে তার বাড়ি সংলগ্ন ১৯৯১ সালে টালানাপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বিএনপির ও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে অদ্যাবধি পর্যন্ত ঐ স্কুলে চাকরি করে সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহমান মিলে বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি ও অবহেলার কারণে অবহেলিত এলাকার হতদরিদ্র শ্রমজীবী মানুষদের কোমলমতি ছেলে মেয়েরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে ঝরে পড়ছে।

অপরদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অমান্য করে দীর্ঘ ১৯৯১ সাল থেকে টালানাপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহমান চাকরি করে আসছে। প্রধান শিক্ষক নুর ইসলাম সবসময় বাড়ির জমিজমার কাজে ব্যস্ত, এলাকায় মাতব্বরি ও কোর্টে মামলা নিয়ে ওকালতি করে আসছে।

জামাত বিএনপি হিসেবে পরিচিত সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহমান কুড়িগ্রাম আদালতে মামলার দালালি করে ব্যস্ত সময় পার করেন এবং এলাকার লোকদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে বিভিন্ন বিভিন্নভাবে হয়রানী করেন।

প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের উদাসীনতা ব্যাপক অনিয়ম আর অনিয়মিতভাবে পাঠদানে লেখাপড়া নিন্মমান হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ফলাফল অসন্তোষজনক। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত দেখে পাশ্ববর্তী বিদ্যালয়ে ভর্তি করাচ্ছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চলতি বছরের বরাদ্দকৃত স্লিপ ৭০ হাজার, প্রাক ১০ হাজার ও ক্ষুদ্র মেরামত দেড় লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ নামমাত্র করে কাগজে কলমে শতভাগ দেখিয়ে মনগড়াভাবে ভাউচার তৈরি করে শিক্ষা অফিসে জমা দিয়ে ফায়দা লুটিয়ে নিয়েছেন। ফলে শিক্ষার গুণগত মান ও সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে।

মূলত- ২০০১ সালে এলজিইডির আওতায় তিন কক্ষের ছাদ ঢালাই বিল্ডিং ঘরটি সুরক্ষিত ও ২০১৯ সালে এলজিইডির আওতায় দ্বিতীয় তলা ছাদ ঢালাই বিল্ডিং পাঁচ কক্ষের ভবন নির্মিত হয়েছে। এই নতুন ভবন দুটি মেরামত, রং করণ ও অন্যান্য মালামাল ক্রয় করার নামে স্লিপ, প্রাক ও ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে এলাকাবাসী জানান।

উল্লেখ্য থাকে যে, প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন উক্ত স্কুলের সহকারি শিক্ষক মরহুম আব্বাস আলীর ২ শতক জমি তাদের পরিবারকে বুঝিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০১৯ সালে এলজিইডির আওতায় দ্বিতীয় তলা ছাদ ঢালাই বিল্ডিং পাঁচ কক্ষের ভবন করা হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত উক্ত জমি ফেরত না দিয়ে উল্টো বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। মরহুম আব্বাস আলীর স্ত্রী নাসিমা বেগম এবং সন্তান মাসুম উক্ত ২ শতক জায়গায় ঘর তুলতে গেলে প্রধান শিক্ষক নুর ইসলাম ও সহকারি শিক্ষক আব্দুর রহমান থানা থেকে পুলিশ ডেকে আনেন এবং ভয়ভীতি দেখান। অথচ উক্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান মৌখিকভাবে জায়গা চিহ্নিত করে স্কুলের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটিকে ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

টালানাপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নুর ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহমান, এনামুল হক, আশুরাফিন্নাহার, শাহাজাদি আক্তার এবং শিক্ষার্থী ২৬৫ জন। বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক এনামুল হক, আশুরাফিন্নাহার, শাহাজাদি আক্তারের সাথে কথা হয়। প্রধান শিক্ষক নুর ইসলামের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ও সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহমান বিশেষ কাজে সকালে কুড়িগ্রাম এসেছি।

হাজীরহাট এলাকার হারুন, জান্নাত, রাজু সহ একাধিক স্থানীয়দের সাথে কথা হলে তারা বলেন, প্রধান শিক্ষক নুর ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহমানের অবহেলার কারণে স্কুলে আমাদের ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা ভালো হয় না এবং পরীক্ষার ফলাফল অনেক খারাপ। স্থানীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চাকরি করে আসছেন। স্কুলের বরাদ্দের বিষয়ে আমরা জানি না। তবে পূর্বের ভবনে রং করেছে।

নাসিমা বেগম বলেন, আমার স্বামী মরহুম আব্বাস আলী ঐ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সহকারি শিক্ষক হিসেবে তিনি সুনামের সাথে চাকুরী করেছেন। আমার স্বামীর ২ শতক জমি ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

মাসুম বলেন, আমার পিতা মরহুম আব্বাস আলীর ঐ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে প্রায় ৩০ শতক জমি দান করেন এবং তার মহতী উদ্যোগে এ এলাকার সন্তানরা শিক্ষার আলো পাচ্ছে। সে অধিকারে বিদ্যালয়ের কাম-দপ্তরী হিসেবে চাকুরী চাওয়ায় প্রধান শিক্ষক ও সহাকারী শিক্ষক আব্দুর রহমান ৬ লক্ষ টাকা দাবী করেন। কাম-দপ্তরী চাকুরীটি হলে আমি পরিবার পরিজন নিয়ে স্বচ্ছভাবে বাচতে পারবো। আমি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সহযোগিতা কামনা করছি।

প্রধান শিক্ষক নুর ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্লিপ, প্রাক ও ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পের কাজ করার পরেও এলজিইডি অফিসের এসও কে টাকা দিয়ে প্রত্যায়ন নেয়াসহ উপজেলা শিক্ষা অফিস কে ম্যানেজ করতে হয়।

কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিটি স্কুলে সরকারি বরাদ্দের নির্দেশনা বোর্ড বাধ্যতামূলক লাগাতে হবে অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। টালানাপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ে তদন্ত করে অনিয়ম পরিলিক্ষত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(টালানাপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রতিষ্ঠানে অনিয়মিত উপস্থিতি ও অবহেলায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিতসহ চলতি বছরের বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম করে অর্থ আত্মসাৎকারীর বিরুদ্ধে দুদক রংপুর সমন্বিত কার্যালয় রংপুর বিভাগের উপ-পরিচালক এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন উক্ত এলাকাবাসী)।

আরও সংবাদ